This is this sidebar for a particular page. It can be edited by editing a page from within the control pannel.

পবিত্র সপ্তাহের সূচনা হয় পাম সানডে দিয়ে। এই দিনে যীশু একটি গাধার বাচ্চায় চড়ে জেরুজালেমে প্রবেশ করেন। জনতা খেজুরের ডাল নেড়ে এবং নিজেদের পোশাক পথে বিছিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। তারা উচ্চস্বরে ঘোষণা করে, "হোশান্না! প্রভুর নামে যিনি আসছেন, তিনি ধন্য।"
যীশু জেরুজালেমের মন্দিরে গিয়ে দেখলেন সেখানে উপাসনার পরিবর্তে ব্যবসা চলছে। তিনি অর্থ-বিনিময়কারীদের টেবিল উল্টে দিয়ে ঘোষণা করলেন, "আমার পিতার গৃহ প্রার্থনার গৃহ।"
এই দিনে যীশু মন্দিরে শিক্ষা দেন, ধর্মীয় নেতাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ঈশ্বরের রাজ্য, বিচার ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সত্য প্রকাশ করেন।
এই দিনে যিহূদা ইস্কারিয়োত ত্রিশটি রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে যীশুকে ধরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এই দিনে যীশু তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে শেষ ভোজ পালন করেন। তিনি রুটি ও দ্রাক্ষারসের মাধ্যমে নতুন চুক্তির স্মারক প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তিনি শিষ্যদের পা ধুয়ে দিয়ে প্রকৃত সেবার উদাহরণ স্থাপন করেন।
এই দিনে যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। তিনি মানবজাতির পাপের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। ক্রুশে থেকেও তিনি তাঁর নির্যাতনকারীদের জন্য প্রার্থনা করেন।
যীশুর দেহ সমাধিতে রাখা হয়। শিষ্যরা শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করেন। বাইরে সবকিছু নীরব মনে হলেও ঈশ্বরের পরিকল্পনা চলমান ছিল।
সপ্তাহের প্রথম দিনে যীশু মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হন। খালি সমাধি ঘোষণা করে যে মৃত্যু শেষ কথা নয়; খ্রিস্ট জীবিত।
পবিত্র সপ্তাহের প্রতিটি দিন আমাদের জীবনের জন্য মূল্যবান শিক্ষা বহন করে—
পবিত্র সপ্তাহ কেবল একটি ধর্মীয় পালন নয়; এটি ঈশ্বরের অশেষ প্রেমের এক জীবন্ত স্মারক। যীশুর বিজয়ী প্রবেশ আমাদের বিনয় শেখায়, শেষ ভোজ ভালোবাসা ও সেবার শিক্ষা দেয়, ক্রুশ আমাদের মুক্তির মূল্য স্মরণ করিয়ে দেয় এবং পুনরুত্থান আমাদের অনন্ত আশার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
যদি আমরা পবিত্র সপ্তাহের শিক্ষাগুলো হৃদয়ে ধারণ করে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করি, তবে আমাদের জীবন আরও বেশি খ্রিস্টকেন্দ্রিক, প্রেমময় এবং ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশকারী হয়ে উঠবে।