This is this sidebar for a particular page. It can be edited by editing a page from within the control pannel.

বাইবেলের যোহন লিখিত সুসমাচারে লেখা আছে, “আদিতে বাক্য ছিলেন, বাক্য ঈশ্বরের সঙ্গে ছিলেন, এবং বাক্যই ঈশ্বর ছিলেন।” এখানে “বাক্য” বলতে শুধু সাধারণ কথা বোঝানো হয়নি। এখানে এমন এক জীবন্ত সত্যকে বোঝানো হয়েছে, যিনি ঈশ্বরের ইচ্ছা, জ্ঞান এবং ভালোবাসাকে মানুষের সামনে প্রকাশ করেন। সেই বাক্যই পরে মানুষ হয়ে পৃথিবীতে আসেন, আর তিনি হলেন যীশু খ্রিষ্ট বা মাবুদ ঈসা ।
যখন আমরা কারো কথা শুনি, তখন আমরা তার মন ও চিন্তা সম্পর্কে জানতে পারি। ঠিক তেমনি, মানুষ যেন ঈশ্বরকে বা খোদাকে জানতে পারে, তাই খোদা তাঁর “বাক্য” পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। ঈসা মানুষের সামনে খোদার চরিত্র প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভালোবাসা, দয়া, ক্ষমা এবং সত্যের মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পেরেছে খোদাকেমন। তাই ঈসাকে “বাক্য” বলা হয়, কারণ তাঁর মাধ্যমে খোদ নিজেকে মানুষের কাছে প্রকাশ করেছেন।
ঈসা পৃথিবীতে আসার আগেও ছিলেন। তিনি শুধু একজন মানুষের জন্ম দিয়ে শুরু হননি। বাইবেল বলে, সব কিছু তাঁর মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে। আকাশ, পৃথিবী, মানুষ এবং জীবনের সব কিছু খোদা তাঁর বাক্যের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন। যেমন খোদা বলেছিলেন, “আলো হোক,” আর আলো হয়েছিল। অর্থাৎ খোদার বাক্যের মধ্যেই শক্তি ও জীবন ছিল। সেই জীবন্ত শক্তির প্রকাশই ঈসা।
ঈসা পৃথিবীতে এসে শুধু শিক্ষা দেননি, তিনি মানুষের মাঝে বাস করেছেন। তিনি ক্ষুধার্তকে খাবার দিয়েছেন, অসুস্থকে সুস্থ করেছেন, ভাঙা হৃদয়কে সান্ত্বনা দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন খোদা শুধু দূরের কেউ নন, বরং মানুষের খুব কাছের। তাই যখন মানুষ ঈসাকে দেখে, তখন তারা খোদার ভালোবাসার প্রকাশ দেখতে পায়।
“বাক্য মানুষ হলেন” এই কথার অর্থ হলো, খোদা মানুষের ভাষায়, মানুষের জীবনে এবং মানুষের মাঝে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। ঈসা এমনভাবে পৃথিবীতে এসেছিলেন যেন মানুষ তাঁকে বুঝতে পারে, তাঁর কথা শুনতে পারে এবং তাঁর মাধ্যমে খোদার কাছে ফিরে যেতে পারে।
এই কারণেই খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে ঈসা শুধু একজন শিক্ষক নন; তিনি খোদার জীবন্ত বাক্য, যিনি পৃথিবীতে এসে মানুষকে সত্য, জীবন এবং মুক্তির পথ দেখিয়েছেন।