This is this sidebar for a particular page. It can be edited by editing a page from within the control pannel.

যীশু যখন গালীল থেকে যর্দন নদীর তীরে যোহন বাপ্তিস্মদাতার কাছে আসেন, তখন তিনি যোহনের কাছ থেকে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন। যোহন মানুষকে পাপ থেকে ফিরে ঈশ্বরের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছিলেন এবং অনুতাপের প্রতীক হিসেবে বাপ্তিস্ম দিচ্ছিলেন।
মথি ৩:১৩–১৭ পদে বর্ণিত হয়েছে, যীশু বাপ্তিস্ম নেওয়ার জন্য যোহনের কাছে এলে প্রথমে যোহন তাঁকে বাধা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যীশু বলেছিলেন, “এখন তাই হতে দাও; কারণ এইভাবে সমস্ত ধার্মিকতা পূর্ণ করা আমাদের পক্ষে উপযুক্ত।”
এরপর যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন।
বাইবেলের বিবরণ অনুযায়ী, যীশু বাপ্তিস্ম নেওয়ার পর জল থেকে উঠে আসেন। তখন আকাশ খুলে যায় এবং ঈশ্বরের আত্মা কবুতরের মতো তাঁর ওপর অবতীর্ণ হন। একই সময়ে স্বর্গ থেকে একটি কণ্ঠ শোনা যায়:
“ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাতেই আমি প্রীত।”
এই ঘটনাটি খ্রিস্টীয় বিশ্বাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানে পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ দেখা যায়।
যীশু নিজের জন্য কোনো ব্যক্তিগত পাপের কারণে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন—খ্রিস্টীয় বিশ্বাসে এমনটি বলা হয় না। বরং তাঁর বাপ্তিস্মকে ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্যের প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়।
তিনি দেখিয়েছিলেন যে ঈশ্বরের পরিকল্পনা পূরণ করার জন্য বিনয় ও আনুগত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যীশুর বাপ্তিস্মের পর তাঁর প্রকাশ্য প্রচার ও পরিচর্যার কার্যক্রম শুরু হয়। তাই বাপ্তিস্মকে তাঁর মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনাবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এরপর তিনি মানুষকে ঈশ্বরের রাজ্য, অনুতাপ, বিশ্বাস, ভালোবাসা ও ন্যায়ের বিষয়ে শিক্ষা দিতে শুরু করেন।
যীশু বাপ্তিস্ম গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করেছিলেন। তিনি মানুষের মাঝে এসে মানুষের জীবন ও দুঃখ-কষ্টের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন।
এখানে তাঁর নম্রতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ পায়—তিনি মানুষের কাছ থেকে দূরে না থেকে মানুষের মাঝেই অবস্থান করেছেন।
বাপ্তিস্মের সময় পবিত্র আত্মা কবুতরের মতো যীশুর ওপর অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা সুসমাচারগুলোতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি যীশুর মিশন ও ঈশ্বরের আত্মার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বে বিবেচিত হয়।
স্বর্গ থেকে শোনা কণ্ঠ—“ইনিই আমার প্রিয় পুত্র”—যীশুর পরিচয় সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।
এই ঘটনার মাধ্যমে যীশুর প্রতি ঈশ্বরের অনুমোদন ও সন্তুষ্টির কথা প্রকাশিত হয়।
যীশুর বাপ্তিস্মের ঘটনা শুধু একটি ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় ঘটনা হিসেবে নয়, বরং বিশ্বাসীদের জন্য শিক্ষার উৎস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
এখান থেকে আমরা বিনয়, আনুগত্য, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস এবং মানুষের সেবার শিক্ষা পেতে পারি। যীশুর জীবন দেখায় যে সত্যিকারের নেতৃত্ব ক্ষমতার প্রদর্শনের মধ্যে নয়; বরং মানুষের সেবা, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের মধ্যেও নেতৃত্বের প্রকাশ ঘটে।
যীশুর বাপ্তিস্ম খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যর্দন নদীতে যোহন বাপ্তিস্মদাতার হাতে তাঁর বাপ্তিস্ম তাঁর পার্থিব পরিচর্যার সূচনা, ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য, মানুষের সঙ্গে একাত্মতা এবং পবিত্র আত্মার কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস শুধু কথায় নয়; জীবনের কাজ, বিনয়, আনুগত্য ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েও তা প্রকাশ পায়।