This is this sidebar for a particular page. It can be edited by editing a page from within the control pannel.

যীশু খ্রিস্ট মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, ক্ষমা, দয়া এবং ঈশ্বরের রাজ্যের বার্তা প্রচার করতেন। তিনি ধর্মীয় ভণ্ডামি, অন্যায় ও অবিচারের সমালোচনা করতেন। তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় তৎকালীন কিছু ধর্মীয় নেতার মধ্যে বিরোধ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে যীশুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রোমান প্রশাসকের কাছে বিচারার্থে পাঠানো হয়।
যীশুকে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। নতুন নিয়মের সুসমাচারগুলোর বর্ণনা অনুযায়ী, রোমান গভর্নর পন্তীয় পীলাত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। যদিও তিনি যীশুর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো অপরাধ স্পষ্টভাবে খুঁজে পাননি, তবুও জনতার চাপ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়।
যীশুকে জেরুজালেমের বাইরে গলগথা বা "খুলি স্থান" নামে পরিচিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ক্রুশে বিদ্ধ করা হয়। সুসমাচারগুলোর বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর আগেও তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন এবং যারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাঁর এই আচরণ ক্ষমাশীলতা ও ভালোবাসার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়া মানবজাতির পাপের জন্য তাঁর আত্মত্যাগের অংশ। তাঁর মৃত্যু এবং পরবর্তীকালে পুনরুত্থান খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের কেন্দ্রীয় ভিত্তি। প্রতি বছর গুড ফ্রাইডে যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার স্মরণে এবং ইস্টার সানডে তাঁর পুনরুত্থানের স্মরণে বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টানরা বিশেষ ধর্মীয় আচার পালন করেন।
যীশু খ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ইতিহাস আত্মত্যাগ, সত্য, ভালোবাসা এবং ক্ষমার এক গভীর শিক্ষা বহন করে। ইতিহাস ও ধর্মীয় বিশ্বাস—উভয় ক্ষেত্রেই এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর জীবন ও মৃত্যু আজও কোটি কোটি মানুষকে ন্যায়, সহমর্মিতা এবং মানবসেবার পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।