This is this sidebar for a particular page. It can be edited by editing a page from within the control pannel.

যীশু প্রথম শতাব্দীতে রোমান অধিকৃত জুদিয়ায় প্রচারকাজ পরিচালনা করেন। তিনি ঈশ্বরের রাজ্য, প্রেম, ক্ষমা, দয়া এবং ন্যায়বিচারের শিক্ষা দেন। তাঁর শিক্ষা সমাজের প্রান্তিক মানুষ, দরিদ্র, অসুস্থ এবং অবহেলিতদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁর শিষ্যরা ঘোষণা করেন যে তিনি পুনরুত্থিত হয়েছেন। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই খ্রিস্টধর্মের সূচনা হয় এবং পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে তা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মে পরিণত হয়।
আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যীশুকে ত্রাণকর্তা ও প্রভু হিসেবে বিশ্বাস করেন। তাঁর শিক্ষা ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, সমাজ এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার এবং দরিদ্রসেবায় বহু খ্রিস্টীয় সংগঠন তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে কাজ করছে। একই সঙ্গে, যীশুর শিক্ষা ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে ক্ষমা, সহানুভূতি এবং প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসার মতো সার্বজনীন মূল্যবোধের আলোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যীশু খ্রিস্ট আবার ফিরে আসবেন। এই ঘটনাকে সাধারণভাবে "দ্বিতীয় আগমন" বলা হয়। অনেক খ্রিস্টান বিশ্বাস করেন যে তখন চূড়ান্ত বিচার হবে এবং ঈশ্বরের রাজ্য পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে বিভিন্ন খ্রিস্টীয় সম্প্রদায় এই বিষয়ের ব্যাখ্যায় কিছু পার্থক্য রাখে। অন্যদিকে, ঐতিহাসিক বা ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনেক গবেষক মনে করেন, যীশুর নৈতিক শিক্ষা ভবিষ্যতেও মানবসমাজে শান্তি, ন্যায় এবং মানবিকতার অনুপ্রেরণা হিসেবে প্রাসঙ্গিক থাকবে।
যীশু খ্রিস্টের উত্তরাধিকার কেবল একটি ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, দর্শন এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বাসীর কাছে তিনি ঈশ্বরের পুত্র ও ত্রাণকর্তা, আর ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতা। উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তাঁর জীবন ও শিক্ষা অতীতকে ব্যাখ্যা করে, বর্তমানকে প্রভাবিত করে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মানুষের আশা ও চিন্তাকে গঠন করে।